যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে বাগাড়ম্বর বা কঠোর ভাষা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সম্ভাব্য আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ট্রাম্পকে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আমরা আশা করছি, বুধবার (২২ এপ্রিল) বা পরদিনের মধ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেবে।’

এই কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাথে পাকিস্তান নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির ছায়ায় কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মঙ্গলবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ভুল ধারণার ভিত্তিতে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছেন। চাপ সৃষ্টি করে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গালিবাফ অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা আমরা গ্রহণ করি না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রয়োজনে নতুন কৌশল বা নতুন তাস সামনে আনা হবে।

এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পারস্পরিক অভিযোগের কারণে আলোচনার পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহলও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা যেকোনো ধরনের উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই