অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া একটি আতঙ্কের নাম। এটি একটা নেশার মতো। যা মাদকের চেয়েও ভয়াবহ। এখানে একবার ঢুকলে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া উপায় নেই। এক ধরনের কৌতূহল থেকে তরণ প্রজন্ম এ জুয়ায় আকৃষ্ট হয়ে লোভে পড়ে হাজার হাজার টাকার বিনিয়োগের একপর্যায়ে হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ফলে সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ায় বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা, পড়ছে আইন-শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব।
বগুড়ার ধুনটে পৌরসভা সহ ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারের চা ষ্টলে, গুদাম ঘর, প্রতিষ্ঠানের ছাদে, খোলা মাঠে, নদীর চরে এমন কি বাড়িতে শুয়ে শুয়ে চলছে ক্যাসিনো জুয়ার আসর। ক্যাসিনো জুয়া মাদকের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার আনাচে কানাচে। এ উপজেলায় দিন দিন অনলাইনে জুয়াড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উপজেলার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র থেকে শুর” করে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী সহ অনেকেই অনলাইন ক্যাসিনো নামের জুয়ায় মত্ত। বর্তমান সময়ে চা দোকানি থেকে শুরু করে সেলুন দোকানদার, বিক্রয়কর্মী থেকে শুরু করে ভবঘুরে, বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজি চালক, নির্মাণ শ্রমিক, অটো রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রেণির মতো একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষও দিনের একটা সময় অনলাইনে বাজি ধরতেই ব্যস্ত থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, পুলিশ প্রশাসনের দাবি উপজেলা জুড়ে অনলাইন ক্যাসিনো বন্ধে বা ক্যাসিনো জুয়ারীদের বিরুদ্ধে তথ্যের অভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছেনা তারা। অথচ এসকল সামাজিক অপরাধ নির্মূলের জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে রয়েছে বিট পুলিশিং কমিটি। কমিটির কার্যালয় ও সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার অনেকটাই বাজার কেন্দ্রীক। ওই সকল সদস্যরাও অনলাইন জুয়ার দৃশ্য দেখেও কোন পদক্ষেপ নেন না বলে জানান তারা। আবার বিট পুলিশিং কমিটির কেউ কেউ নিজেই ক্যাসিনো জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত।
জানা যায়, দেশের সর্বত্রই চলে এখন এই অনলাইন ক্যাসিনো নামের জুয়া। তবে এসব ক্যাসিনোর মালিক কে বা কারা সেটা সবারই অজানা থাকলেও চলছে হাজার হাজার টাকা বাজি। জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহার ও ক্যাসিনো খেলার নিয়ম ফেসবুক পেজ, ইউটিউবসহ নানা সাইডে বিজ্ঞাপন আকারে ভাসতে দেখা যায়। টাকার বিনিময়ে গ্রুপের সদস্য হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। চাওয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, নাম, বয়স, জন্ম তারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর। এসব তথ্য দিলেই জুয়ার গ্র”পে মেলে সদস্য হওয়ার অনুমতি। এক তথ্যে জানা যায়, জুয়ার এসব সাইটের অধিকাংশই পরিচালনা করা হয় রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে। বিদেশ থেকে পরিচালিত এসব সাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশের এজেন্টরা। জুয়ায় হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে বিদেশে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম জানান, অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া সম্পর্কে আমি অবগত নই। দৃশ্যমান জুয়ার চেয়ে অনলাইন জুয়া খেলা শনাক্ত করা অনেকটাই জটিল। এ জুয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত থানা পুলিশকে কেউ তথ্য দেয়নি। সঠিক তথ্য পেলে অভিযান চালিয়ে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি জানান।