খুলনায় গ্লোকোমা রোগে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ চিকিৎসা সেবার আওতায় রয়েছে, বাকি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় অন্ধত্বের ঝুঁকিতে আছেন।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, গ্লোকোমা হলো “চোখের নীরব ঘাতক”। এটি এমন একটি রোগ, যেখানে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একসময় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না, ফলে রোগীরা অজান্তেই অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যান।

চিকিৎসকরা জানান, মানুষের শরীরের মতো চোখেরও একটি স্বাভাবিক চাপ বা প্রেসার রয়েছে। সাধারণত এই চাপ ১০ থেকে ২১ মিলিমিটার মার্কারি থাকে। কিন্তু যখন এটি ২১-এর ওপরে চলে যায়, তখন চোখের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এ অবস্থাকেই গ্লোকোমা বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো বয়সে গ্লোকোমা হতে পারে, তবে ৪০ বছরের পর এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের পরিবারে গ্লোকোমার ইতিহাস রয়েছে, যারা মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করেন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বয়সজনিত পরিবর্তন, চোখে আঘাত, জন্মগত ত্রুটি, হরমোন থেরাপি কিংবা চোখের রক্তসঞ্চালন জনিত সমস্যাও গ্লোকোমার কারণ হতে পারে। রোগটির লক্ষণ হিসেবে চোখে কম দেখা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র মাথা ব্যথা, চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, পানি পড়া, বমিভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে চিকিৎসকরা জানান, গ্লোকোমার চিকিৎসায় মূলত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে চোখের ড্রপ, লেজার চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার। রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোজ কুমার দাস বলেন, গ্লোকোমার দু’টি প্রধান ধরন রয়েছে-ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লোকোমা এবং অ্যাঙ্গেল ক্লোজার গ্লোকোমা। ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লোকোমা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, আর অ্যাঙ্গেল ক্লোজার দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক মানুষের মধ্যে গ্লোকোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা এখনো তা সম্পর্কে সচেতন নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই গ্লোকোমা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।