গ্রীষ্মের অসহনীয় গরম আর চোখ রাঙনো রোদের উত্তাপে ওষ্ঠাগত হচ্ছে প্রাণ। অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত জীব ও প্রকৃতি। দিনে মাথার উপর সূর্যের প্রখরতা ও উত্তাপে সারা শরীর যেন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে, এরপর আবার অসহ্য গরমে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের লুকোচুরি। দিন-রাত বিদ্যুতের বিড়ম্বনা এই গরমের অনুভূতিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছেনা ঘরে-বাইরে কোথাও। গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে দিনমুজুর, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আরো বেশি নাভিশ^াস তুলছেন। অসহনীয় এই গরমে তারা যেন শ্বাস পারছেনা, এক কথায় মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ। তবু তাদের পরিবারের আহার যোগাতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে চালিয়ে জীবন যুদ্ধ। গরমের হাত থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই গাছের নীচে শুয়ে-বসে থাকছেন, পিপাসা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা শরবত বা পানীয় পান করছেন। গরম হতে মুক্তি পেতে দুপুর গড়াতেই উঠতি বয়সী তরুণেরা ঝাঁপ দিচ্ছে পুকুর বা নদীর পানিতে। তীব্র গরমে কাহিল হয়ে পড়া প্রাণীকূল আকাশের পানে তাকিয়ে, কখন ঝরঝর করে নামবে স্বস্তির বৃষ্টি।

খুলনা আবহাওয়া অফিস বলছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকার দরুন বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। যার দরুন তাপমাত্রাও বাড়ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৬ ডিগ্রি, মোংলায় ৩৫ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ৩৫ ডিগ্রি, যশোরে ৩৭ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গা ৩৬.৫ ডিগ্রি, কুমারখালী ৩৬.৫ ডিগ্রি ও কয়রায় ৩৪.২ ডিগ্রি। খুলনায় আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামান্য করে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিলের পর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আগামী ২৪ এপ্রিলের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা ও গরম কমে আসবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে, গ্রীষ্মের রোদের উত্তাপে কর্মব্যস্ত নগরবাসী, পথচারী, বিভিন্ন গাড়ীর চালক, পেশাজীবি-দিনমজুর, নি¤œআয়ের মানুষ, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের হাফিয়ে উঠতে দেখা গেছে। অনেক পোষ প্রাণী গরম সইতে না পেরে আশপাশের ড্রেন বা জলাশয়ে নেমে পড়েছে। পথচারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী তৃষ্ণা মেটাতে সড়কের পাশের ঠান্ডা আাখের রস, লেবুর শরবত বা ঠান্ডা পানীয় পান করতে দেখা গেছে। স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে গাছের ছায়ায় মাদুর পেতে শুয়ে-বসে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া শরীর শীতল করতে সর্বশ্রেণীর ও বয়সের মানুষদের পুকুর ও নদীর পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। গরমে পড়ে কাহিল হওয়া মানুষগুলো শীতলের পরশ খুঁজতে স্বস্তির বৃষ্টির জন্য আকাশের পানে চেয়ে আছে।

দিনমজুর আব্দুল জব্বার বলেন, ৪ সদস্য নিয়ে আমার পরিবার। আমার আয়ের উপর দিয়েই সংসার চলে। আমি রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ করি। কয়েকদিন ধরে এতো গরম পড়ছে যে কাজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এতো গরমে কি আর কাজ করা যায়? তবুও অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে গতকাল এতো গরম লেগেছে যে, কাজ রেখে বাড়ীতে চলে আসছি।

রিক্সাচালক জাকির হোসেন জানান, গরমে গাড়ী চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বাইরে এতো রোদ যে এমনিতেই শরীর ঘেমে ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই কি করবো গাড়ি তো চালাতেই তবে। কারণ প্রতিদিনের সংসার খরচ, ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ জোগাড় করতে হবে। তবে গরমে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে।

গৃহিনী রহিমা রহমান জানান, ২/৩ দিন ধরে খুব গরম পড়ছে। বাইরে প্রচুর রোদ আর ঘরে ভেতরে ভ্যাপসা গরম। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি পাচ্ছি না। তাছাড়া কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তি আরো বাড়ছে। এই গরম থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র বৃষ্টির বিকল্প কিছু নেই।

চা-বিক্রেতা আব্দুল হান্নান জানান, বাইরে রোদের উত্তাপ, দোকানের ভেতরে গ্যাসের আগুনের পাশে দাড়িয়ে চা-বানায়। এমনিতেই শরীর দরদর করে ঘাম ছেড়ে দেয়। আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি ছাড়া এমন গরম কমা সম্ভব নয়। ৮ম শ্রেণীর স্কুল শিক্ষার্থী আরিক জানান, বাইরে প্রচুর রোদ। প্রয়োজন ছাড়া ক্লাস রুম থেকে বের হই না। তবে, স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার পথে প্রচুর পানি তৃষ্ণা পায়। ওই সময় তৃষ্ণা মেটাতে লেবু শরবত পান করি।

এ ব্যাপারে খুলনা আঞ্চলিক আওহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আবহাওয়াবিদ অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকার দরুন গরম অনুভূত হচ্ছে, তাপমাত্রাও বাড়ছে। খুলনায় আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামান্য করে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিলের পর আকাশ আশিংক মেঘলা থাকতে পারে। আগামী ২৪ এপ্রিলের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভবনাও রয়েছে, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা ও গরম কমে আসবে।