শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, গত ৪-৫ দিন ধরে উপজেলার জাফরগঞ্জ, গোয়ারিয়া, ডালা মালুচি, গান্দাইল, তেওতা, সমেজঘর তেওতা, নিহালপুর, আরিচা, অন্বয়পুর, হেমগঞ্জ, দাসকান্দি, পাটুরিয়া ও নয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার অনেকেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

গত বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে পাটুরিয়ার ৪ ও ৫ নম্বর ফেরি ঘাটসহ ৭-৮টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতি বছর যমুনার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের কারণে অনেকের ঘরবাড়ি নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছর শত শত বিঘা ফসলি মাঠ ও ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন। অনেকেই নদীর গর্ভে ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তার পাশে কোন রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন।

নিহাপুর এলাকার তেওতা একাডেমীর সহকারী শিক্ষক আমির খান বলেন, আমি প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর বাড়ি করেছিলাম। প্রতি বছর যমুনা নদীতে ভাঙতে ভাঙতে এখন ঘর তোলার জায়গাটুকুও নেই। প্রায় আধা শতাংশ জমির ওপরে ছাপড়া ঘর তুলে কোন রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। যে ভাঙন শুরু হয়েছে এটুকু জমি ও ঘর যেকোনো সময় নদীর গর্ভে চলে যাবে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় ভাঙ্গনে অনেকেই ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও প্রশাসন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নদীর গর্ভে অনেকেরই ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু নদী ভাঙন রোধে প্রশাসন স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা করার।

পাটুরিয়া ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন পান্নু খান বলেন, পাটুরিয়া ঘাট এলাকাসহ নদী ভাঙ্গন এলাকায় বেড়িবাঁধের দাবিতে পাটুরিয়া মোড়ে কয়েক শত লোক মানববন্ধন করেছেন। প্রশাসন আমাদের নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আবার কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন থেকে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গত বছরের মতো পাটুরিয়া ফেরি ঘাট এলাকাসহ অনেকেরই ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কমনা করছি।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, নদীভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মানিকগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকতারুজ্জামান বলেন, আমরা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এছাড়া, কোনো স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক দ্রুত ব্যবস্থা নেব।