পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলীতে আলী হোসেন (৪১) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সিমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফুরের ছেলে।
স্থানীয় ও বিজিবি সুত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা বরাবর বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ির পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপ পিলার সংলগ্ন সীমান্তের নিকট জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী ৫/৭ জন বাংলাদেশী পারাপারের জন্য ভারতীয় সিমান্ত এলাকার প্রায় ২০০ গজের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এসময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহলরত দলের সদস্য রাতে ঐ সিমান্ত এলাকায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলী ছুড়লে অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বিএএসএফ সদস্যদের গুলীতে ঘটনা স্থলেই বাংলাদেশী যুবক আলী হোসেন(৪১) নিহত হয়। পরে নিহতের লাশ বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
গুলীর খবর জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর ধবলগুড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় ও পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়।
বুধবার সকাল ১১ টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপপিলারের নিকট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে ২০ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্য নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, সভায় বিএসএফকে সীমান্তে গুলী করে এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানীর সাথে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফকে আঘাত করে। বিএসএফ আতœরক্ষার্থে গুলী করে। এতে এ অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। বর্তমানে নিহতের লাশ মাথাভাঙা থানা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলীতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’
এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মজিবর রহমান জানায় ‘রাতে সীমান্তে গুলীর ঘটনা ঘটে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি গুলীতে মারা গেছেন।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘বিএসএফের গুলীতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তারা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’