খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সর্বত্র এমনকি পল্লীগ্রাম পর্যায়েও স্থানীয় সরকারের উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা না দিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ইতোমধ্যে বিএনপি’র চার জন ও জামায়াতে ইসলামীর একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান। তিনি ২০১১ সালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে সদস্য সচিব হন। বর্তমানে তিনি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির ২নং সদস্য রয়েছেন। বিএনপি’র আরেকজন প্রার্থী সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন। তিনি ১৯৮৪’তে নর্থ খুলনা ডিগ্রি কলেজে ছাত্র রাজনীতি এবং ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বারাসাত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির ৪নং সদস্য হিসেবে বিএনপির সাথে যুক্ত রয়েছেন।
বিএনপির অপর একজন প্রার্থী যিনি প্রধান শিক্ষক মো. ইকরাম হোসেন জমাদ্দার। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ছাত্রদলে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯২ পর্যন্ত উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, ২০১৭’তে যুবদলের উপজেলা সভাপতি এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা সহ-সভাপতি ছিলেন। বিএনপি’র লন্ডন প্রবাসী প্রার্থী আরিফ বিল্লাহ। তিনি নর্থ খুলনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক স. ম এনামুল হক। তিনি ২০০২ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। স্থানীয় ভোটার ও তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের বিবেচনায় এসব প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে প্রাধান্য পাবেন শিক্ষিত সৎ ও জনকল্যাণকর কাজ করেন এমন নেতারাই।
নির্বাচনি প্রাক-প্রস্তুতির অংশ হিসেব এরই মধ্যে এ সকল প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। গত ঈদ উল ফিতরে সামাজিক মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে শুভেচ্ছা দিয়ে অনেকে আলোচনায় এসেছেন। কেউ কেউ ফেসবুকে বা এলাকায় বিলবোর্ড সাঁটিয়েও প্রচারণা শুরু করেছেন। অনেকে সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি অনুদান প্রদান করছেন এবং নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন।
তেরখাদা উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৪৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৫ হাজার ১২২ জন ও নারী ভোটার ৫৩ হাজার ৮২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। উপজেলার সচেতন মহল বলছেন, ক্ষমতার মোহে নয় বরং অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে জনসেবার মানসিকতা নিয়েই নির্বাচনে আসা উচিত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং ভোটারদের মাঝেও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভোটাররা বলছেন, উপজেলাকে জবাবদিহিমূলক স্থানীয় প্রশাসন হিসাবে গড়ে তোলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, কৃষক, শ্রমিক, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বাস্তবসম্মত এবং টেকসই উন্নয়ন সাধন যিনি করতে পারবেন এবার তাকেই আমরা ভোট দিব।