চোর তাড়িয়ে এবার ডাকাত আনা হয়েছে রূপসা ঘাটে। বিগত সরকারের আমলে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃপক্ষ রূপসা ঘাটে টোল আদায়ের নামে চালানো হতো জুলুম ও হয়রানি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর ক্ষমতার পালাবদল হয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে রূপসা ঘাটের টোল ইজারা নেয় শেখ আলী আকবর। টোল ইজারা নেওয়ার পর শুরু হয় যাত্রীদের সাথে রুঢ় আচরণ, জুলুম, অত্যাচার ও রাহাজানি। জনগুরুত্বপূর্ণ এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয় হাজার হাজার যাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতি টোল আদায় করা হয় এক টাকা করে। অথচ সেখানে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়া এমনকি রাতারাতি গত ২১ মার্চ থেকে জনপ্রতি টোল আদায় করা হচ্ছে দুই টাকা করে। এতে রূপসাঘাট দিয়ে পারাপাররত যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টোল আদায়ের নামে চলছে হয়রানি।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, রূপসাঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ট্রলারে পারাপার হয় হাজার হাজার যাত্রী। জনপ্রতি ট্রলারে রীতিমত পারানি গুণতে হয় চার টাকা, টোল দিতে হয় দুই টাকা মোট ছয় টাকা। অর্থাৎ, একজন যাত্রীর প্রতিদিন ট্রলার পারাপার হতে পারানিসহ টোল গুণতে হয় ১২ টাকা। একজন ব্যক্তি বাইসাইকেল নিয়ে পার হতে হলে পারানি গুনতে হয় পাঁচ টাকা, টোল গুণতে হয় দুই টাকা। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির বাইসাইকেল নিয়ে ট্রলারে পারাপার ও টোল গুণতে হয় ১৪ টাকা। একজন ব্যক্তি ট্রলারে মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গেলে পারানি গুনতে হয় ২০ টাকা, টোল গুণতে হয় ১০ টাকা। অর্থাৎ, মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হতে টোল গুণতে হয় ৬০ টাকা। এমনও আছে অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে একাধিকবার পারাপার হয়ে থাকেন। এসব কারণে নি¤œ আয়ের একজন মানুষের পক্ষে খুবই কষ্টকর ব্যাপার।