গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আকস্মিক অভিযান ও জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। সোমবার (১০ আগস্ট) তিনি সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, যুগ্ম অফিস, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ও রেকর্ডরুম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং নকলনবীস, দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রত্যয়ন ছাড়াই বালাম বই লেখার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের সময় দলিল লেখকরা জেলা প্রশাসকের কাছে দলিল নিবন্ধন কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। তারা জানান, দানপত্র দলিলে নতুন করে কর সংযোজনের ফলে এ ধরনের দলিলের সংখ্যা কমে গেছে। একইভাবে ঘোষণাপত্র দলিল আগে দাদা-নাতি, নানা-নানি ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে তুলনামূলক কম খরচে সম্পাদন করা গেলেও বর্তমানে কর সংযোজনের কারণে এ ধরনের দলিলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দলিল লেখকদের এসব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি বা অযথা ব্যয়ের শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত আইন মেনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধা ও সরকারি রাজস্ব—দুই বিষয়েই ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমি ও দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আবার বাস্তব কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দলিল লেখকদের উত্থাপিত করসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বালাম বই লেখা, দলিল নিবন্ধন ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে গাজীপুর জেলা রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমান, গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল বাতেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারী, নকলনবীস ও দলিল লেখকদের মধ্যে সচেতনতা ও তৎপরতা বাড়ে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমি ও নিবন্ধনসেবায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।