সাতকানিয়া সংবাদদাতা : ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি সুখ ও সমৃদ্ধি। আসন্ন ঈদুল ফিতর আমাদের এমন বার্তা দিলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রামে নিহত জামায়াত কর্মী নেজাম উদ্দিন ও ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা আবু ছালেকের পরিবারে স্পর্শ করতে পারেনি উপরোক্ত বাক্যগুলো। স্বজন হারানোর ব্যথায় এখনো কাতর নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেকের পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি আবু ছালেকের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই পরিবারের সদস্যরাই ঈদের কেনাকাটা করেনি। অনেক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন তাদের ঈদের কেনাকাটা করে দেওয়ার উদ্যাগ নিলেও প্রিয়জন হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না পারায় তারা ঈদের কেনাকাটায় আগ্রহী নয়।
সূত্রে জানা যায়,গত তিন মার্চ রাতে বিচারের নাম করে কাঞ্চনা ইউনিয়নের জামায়াত কর্মী নেজাম উদ্দিন ও ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা আবু ছালেককে ডেকে নিয়ে গ্রামে ডাকাত আসার গুজব ছড়িয়ে নির্দয়ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এ ঘটনা প্রায় পাঁচ দিন পর নিহত আবু ছালেকের স্ত্রী সুরমি আক্তার বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও এওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিককে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও তার ভাই যুবলীগ ক্যাডার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মমতাজ, হারুন ও কামরুলসহ মোট ৪৭ জনকে এজাহার নামীয় আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হেলাল উদ্দিন ফারুকী তদন্ত করছেন। এদিকে হত্যাকা-ের প্রায় একমাসের কাছাকাছি সময় হলেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আসামি গ্রেফতারের দাবিতে সমাবেশও করেছে স্থানীয় জনতা।
এদিকে গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে নিহতাদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে ছেন। এ সময় আবু ছালেকের স্ত্রী সুরমি আক্তার তার স্বামী খুন হওয়ার প্রায় একমাস হতে চললেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় শাহজাহান চৌধুরী অচিরেই খুনিদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন।