ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অসাধু মজুতদার, কালোবাজারি ও পাচারকারী চক্রের অপতৎপরতা রোধ এবং সর্বোপরি ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকাসহ সারাদেশে অভিযানিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১০ এপ্রিল আনুমানিক রাত ০১.০০ টার দিকে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাবের একটি যৌথ দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় রাজু ও খোরশেদ নামক দুই ব্যক্তির গুদামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত মোট ০৯টি ব্যারেলে প্রায় ২,০০০ লিটার খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যায়।অভিযানে, স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ, বোতলজাতকরণ এবং ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামক স্টিকার ব্যবহার করে তা বাজারজাত করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে মাত্র ৩ মাসেই প্রায় ৫,৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করেছে বিজিবি। জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী ও কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়া গত ২০২৪ সালে ১৩,১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০,০৯২ লিটার সর্বমোট ৪৩,২৬৯ লিটার ভোজ্য তেল জব্দের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য দমনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুত ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোজ্য তেল পাচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত ও বিশেষ টহল বৃদ্ধি করেছে এবং চিহ্নিত চোরাকারবারী ও চোরাচালানে ব্যবহৃত রুট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তবর্তী গুদামসমূহে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করে অবৈধ মজুত জব্দ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টাস্কফোর্স অফিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী ০৮ কিলোমিটারের বাইরেও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভোজ্য তেল পাচারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং সবাইকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোজ্য তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ মজুত, পাচার ও বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।