উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। হাত, পা, চোখ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ, সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছে। এই শহীদ আহত মানুষের পারিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শহীদেরা জীবন দিয়ে আমাদেরকে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। যাদের কারণে আমরা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা লাভ করছি, পুরস্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের পরিবার থেকে ন্যূনতম একজনকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। আহত মানুষদেরকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলা ও সলঙ্গা থানার ভ্রাতৃশিবিরের উদ্যোগে উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শাজাহান আলীর সভাপতিত্বে উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক আঃ বারীর সঞ্চালনায় ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সংবর্ধনা ২০২৫ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা ইচ্ছা করে সরকারে বসেননি, আপনাদেরকে ছাত্র জনতা সরকারে বসিয়েছে। আপনারা দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দিবেন। দেশে যেন কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে এবং ফ্যাসিবাদী স্টাইলে আর কোন নির্বাচন না হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করুন। দেশ সংস্কার করতে গিয়ে কারও চোখ রাঙ্গানিতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। জনগণ আপনাদের সাথে আছে। আবার সংস্কারের নামে যা ইচ্ছা তাই করলে জনগণকে পাশে পাবেন না। যেভাবে আপনাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, সেভাবেই আপনাদের বিদায় নিতে হবে।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সাবেক শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের জনগণ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ছাত্রশিবির হচ্ছে সৎ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। নিজের মেধা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে দেশ পরিচালনার কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে হবে। ছাত্রশিবির অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছাত্রশিবিরকে দমন করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, জুলুম নির্যাতন করেছে কিন্তু কেউ দমাতে পারেনি। আল্লাহতাআলার রহমতে শিবির এখন মানুষের মন জয় করেছে, ছাত্রদের আস্থার জায়গা হয়েছে। জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠন হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। ছাত্রশিবিরকে যারা নিষিদ্ধ করতে চাইবে সময়ের ব্যবধানে তারাই নিষিদ্ধ হবে। যার প্রমাণ দেশের মানুষ পেয়েছে। ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের কয়েকদিনের ব্যবধানে নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়েছে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। সুতরাং শিবিরকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে দেশের জনগণই তার দাঁতভাঙা জবাব দিবে। বাংলাদেশকে একটি চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, দখলদারিত্বমুক্ত স্বনির্ভর, আধুনিক, মানবিক, কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে ছাত্রশিবিরকে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ডঃ আব্দুস সামাদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন, উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ মিয়া, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ খাইরুল ইসলাম, সালঙ্গা থানা জামায়াতের আমীর রাশেদুল ইসলাম শহিদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মন্ডল, ছাত্রশিবিরের সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আলহাজ উদ্দিন, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ, সোলায়মান হোসেন, আব্দুল বাতেন, সাবেক থানা সভাপতি আশরাফুল আলম মুত্তালিব, বুলবুল আহমাদ, নুরুল্লাহ সিরাজী, রিদওয়ান হোসেন, নুরুল ইসলাম পারভেজ, রেজাউল করিম, আইয়ুব আলি, লিখন আহমেদ, সাবেক থানা সেক্রেটারি মাসুদ হাসানসহ স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষাংশ শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী ও জুলাই ’২৪ বিপ্লবের আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) থেকে ফারুক আহমেদ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন,

একমাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলিম উম্মাহ ঈদের খুশি উৎযাপন করেছে। ঈদ মানে খুশি, আর আল্লাহর বান্দা সত্যিকার খুশি হবে তখন, যখন মানুষের সব মতাবাদ ছেড়ে একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দ্বীনকে বিজয়ী করবে। কেবল মাত্র আল্লাহর গোলামী করার মাধ্যমেই সত্যিকার অর্থে ঈদের প্রাপ্তি পূর্ণ হবে। যতদিন পর্যন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন কুরআন ও সুন্নাহর বিধান উপেক্ষা করে মানুষের তৈরি আইন দ্বারা পরিচালিত হবে সেখানে আর যাই হোক সত্যিকার ঈদের খুশি থাকতে পারে না। নতুন কাপড় পরার জন্য ঈদ আসে নাই, ঈদ এসেছিল মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রেখে কুরআন সুন্নাহর সৌন্দর্য্য সমাজে বাস্তবায়ন করতে। মুসলমানদের সত্যিকারের ঈদ তখনই হবে যখন আমরা মানবরচিত সকল মতবাদকে মুছে দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর দেওয়া আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সহ সকল কিছু পরিচালনা করবো। তখন প্রশান্ত আত্মাদেরকে ডেকে মহান রব বলবেন তোমরা প্রবেশ করো আমার গোলামদের সাথে এই সুসজ্জিত জান্নাতে। আমাদের জীবনের সকল ইচ্ছাকে আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেওয়ার পুরস্কারই হচ্ছে সেই প্রিয় জান্নাত। মুসলিম উম্মাহ ঈদের ময়দানে মিলিত কণ্ঠে ১২ বার আল্লাহু আকবারের ধ্বনি প্রদান করেছে। এই তাকবিরের অর্থ-ই হলো আল্লাহ মহান, আল্লাহ সবার চেয়ে বড়, আল্লাহর বিধানই বড়, সমাজ রাষ্ট্রে আল্লাহর আইনকে বিজয়ী করতে হবে সেই ঘোষণা ঈদের মাঠে করা হয়েছে। সেজন্য আমাদের সকলকে সচেতনভাবে আল্লাহর দ্বীনকে সমাজে বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গত মঙ্গলবার সরকারি আকবার আলী কলেজ মাঠ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাবেক এবং বর্তমান ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লাপাড়া উপজেলা থানা শাখার সম্মানিত আমির অধ্যাপক শাজাহান আলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শাখার অফিস সম্পাদক আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় ঈদ পুনর্মিলনী ও সাবেক এবং বর্তমান ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ইসলামি ব্যাংকের শরীয়া বোর্ডের সদস্য সচিব ড.আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটার্নি জেনারেল অ্যাডঃ আসাদ উদ্দিন, সাবেক বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক মাওলানা নূর মোহাম্মদ মন্ডল সলঙ্গা থানা শাখার আমির রাশিদুল ইসলাম শহিদসহ জেলা কল্যান ফেডারেশনের নেতৃত্ব বৃন্দ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটার্নি জেনারেল অ্যাডঃ আসাদ উদ্দিন বলেন, রফিকুল ইসলাম খানকে বিগত শৈইরাচারী জালিম হাসিনা সরকার অন্যায় ভাবে হাতকড়া ও ডান্ডা বেরি পড়িয়েছিলেন তার কোন অপরাধ ছিলোনা আইনকে উপেক্ষা করে তারা ইচ্ছা মতো যাকে ইচ্ছা তাকে জেলে ঢুকিয়ে দিতো।