ঝিনাইদহ সংবাদদাতা

ঝিনাইদহ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন (২০২৬-২০২৮) ঘিরে চরম ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নির্বাচন বাতিল ও নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে শ্রমিকদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক নেতা আমির ফয়সাল মহব্বত। লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই পরিকল্পিত অনিয়ম ও কারচুপি চলছে। প্রার্থীরা নির্দিষ্ট একটি পদের জন্য মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও তা কেটে অন্য পদে জমা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতিবহির্ভূত। এতে সাধারণ শ্রমিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

শ্রমিক নেতা আমির ফয়সাল মহব্বত বলেন, তিনি কার্যকরী সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করে ১৬ হাজার ৪০০ টাকা জমা দেন। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তার পদের নাম কেটে সহ-সভাপতি পদে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা তার অজান্তে ও সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ তুলে শ্রমিক হানিফ খাঁন বলেন, তিনি যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করে নির্ধারিত ফি জমা দেন। কিন্তু পরে তার পদের নাম পরিবর্তন করে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এভাবে একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে একই ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আগেই পছন্দের প্রার্থীদের ‘সিলেকশন’ করে রাখা হয়েছে। ফলে পুরো নির্বাচনটি একটি পাতানো নির্বাচন-এ রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করি। কিন্তু আমাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ঝিনাইদহের সকল সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সহিংসতা সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।ৎশ্রমিকরা অবিলম্বে বর্তমান তফসিল বাতিল করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার রোকনুজ্জামান রানু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,কিছু শ্রমিক যে অভিযোগ তুলেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। প্রার্থীরা নিজেরাই স্বাক্ষর করে নির্দিষ্ট পদের জন্য ফরম সংগ্রহ করেছেন।

তিনি আরও বলেন,কিছু পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সেগুলো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছে। বাকি পদগুলোতে সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।