চকরিয়া সংবাদদাতা: দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম স্বনির্ভর বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান চকরিয়ার জমজম হাসপাতাল পিএলসিতে চালু করা হয়েছে আঘাত ও দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘জমজম ট্রমা সেন্টার’। একইসাথে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে চলবে ‘সেবা মাস’। শনিবার দুপুর বারোটায় ফিতা কেটে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রুপায়ন দেব। পরে তিনি উদ্বোধন পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা পরবর্তী ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা প্রাথমিক সময়টুকু চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চকরিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টারের অভাব দীর্ঘদিনের ছিল। জমজম ট্রমা সেন্টার সেই অভাব পূরণ করে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন এবং সেবার মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিশকাত উদ্দিন আহমদ।
হাসপাতালের ডিরেক্টর মোহাম্মদ কামাল হোছাইনের সভাপতিত্বে এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও মো. গোলাম কবিরের পরিচালনায় শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ডিরেক্টর আ.ন.ম শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আবদুল করিমের সার্বিক তত্বাবধানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর এহসানুল আনোয়ার, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ ফয়েজুর রহমান ও অর্থোপেডিক বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অনিল সরকার পলাশ। এসময় হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চকরিয়াবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও মো. গোলাম কবির বলেন, চকরিয়া ও আশেপাশের কয়েক লক্ষ মানুষের আস্থার ঠিকানা জমজম হাসপাতাল আজ সেবার পরিধিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। মহাসড়ক সংলগ্ন এই জনপদে ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা আমরা দীর্ঘকাল ধরে অনুভব করেছি। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল।
তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের জীবন রক্ষার চেয়ে বড় ইবাদত আর কিছুই হতে পারে না। বিশেষ করে দুর্ঘটনার পরবর্তী মুহূর্তগুলো (গোল্ডেন আওয়ার) অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা চেয়েছি আধুনিক যন্ত্রপাতি আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এমন একটি ট্রমা সেন্টার গড়ে তুলতে, যেখানে রোগীরা সময়মতো সর্বোচ্চ সেবা পাবে। আমরা কেবল একটি ভবন নির্মাণ করিনি, আমরা চকরিয়াবাসীর জন্য একটি ভরসার আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছি।’