পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি নিয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা নি¤œমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার শিশু শিক্ষার্থী বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অনিমেয়মর চিত্র: সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের যে বনরুটি সরবরাহ করা হচ্ছে তার প্যাকেটে উৎপাদন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তারিখ নেই। ফলে একই রুটি দিনের পর দিন সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রুটিতে ক্ষতিকারক ফাঙ্গাস (ছত্রাক) দেখা যাচ্ছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, এই ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী পেটের পীড়াসহ জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্য: এ বিষয়ে উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক নূরুজ্জামান বলেন, “সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনেক সময় খাবারগুলো কোমলমতি শিশুদের খাওয়ার অনুপযোগী থাকে।”

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, রুটির পাশাপাশি ডিম এবং কলার মানও অত্যন্ত নি¤œমানের। সরবরাহকৃত কলা অনেক সময় কাঁচা বা খাওয়ার অযোগ্য শক্ত থাকে। এছাড়া প্যাকেটজাত ইউএইচটি (টঐঞ) দুধের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি তালিকায় পুষ্টিকর বিস্কুট থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি: উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে প্রতিদিন এই খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু ক্ষুধার তাড়নায় এসব মানহীন খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার শিশুদের লিভার ও কিডনির ক্ষতিসহ মারাত্মক ফুড পয়জনিং সৃষ্টি করতে পারে।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।