‘আমি কার কাছে বিচার চাইব?’ দুই কিডনি অকেজো। এর সঙ্গে ব্রেইন স্ট্রোকের ধকল। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমা গ্রামের মো. কবির হোসাইন (৪৩)। অসুস্থতার এই সুযোগে আপন বড় ভাই রমিজ উদ্দিন তার কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন-এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাভেজা কণ্ঠে কবির হোসাইন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাতের চেষ্টা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নিজের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

কবির হোসাইন বলেন, শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামে তার নিজ নামে কেনা ১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর একটি তিনতলা ভবনও রয়েছে। প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যমানের এ সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধ করেন।

তার অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার বড় ভাই রমিজ উদ্দিন অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে ‘পাগল’ সাজিয়ে কৌশলে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ উত্তোলনের মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কবিরের ভাষ্য, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। একদিকে জটিল শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে নিজের সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ-সব মিলিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি জানান, চিকিৎসা গ্রহণের পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে তিনি নিজের জমিতে যান। সেখানে জমি নিয়ে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ করলে রমিজ উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং মারমুখী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে আবার ওই জমিতে গেলে তাকে খুন-জখম করার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন কবির।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কবির হোসাইন বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ। নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতেও যদি আমাকে ভয়-হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমি কার কাছে বিচার চাইব?” সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আরও ৫-৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারাও রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

এ সময় রমিজ উদ্দিনের মা অভিযোগ করেন, প্রায় ৮-১০ বছর আগে রমিজ উদ্দিন তার কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা ফেরত চেয়ে ফোন করলেও ছেলে ফোন রিসিভ করেননি বলে দাবি করেন মা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তার চোখের অপারেশনের প্রয়োজন হলেও পাওনা টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মায়ের এই অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনদের মধ্যেও আবেগের সৃষ্টি করে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রমিজ উদ্দিন শুধু কবির হোসাইনের সঙ্গেই নয়, পরিবারের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও প্রতারণামূলক আচরণ করেছেন। কবির হোসাইন বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা, নিজ নামে থাকা সম্পত্তি রক্ষা এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।