গাজীপুরের জয়দেবপুরে চাঞ্চল্যকর শাশুড়ি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুত্রবধূর পরিকল্পনায় সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এর মধ্যে দুইজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন।
মামলার বাদী গাজীপুর জেলা, জয়দেবপুর থানার পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত আঃ ছামাদের ছেলে আনিছুর রহমান (৭০) জানান, গত ৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তিনি ও তার ছেলে গাজীপুর জেলা, জয়দেবপুর থানা, পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে মোঃ নাজমুল সাকিব (২৮) নিজ নিজ কর্মস্থলে যান। বাড়িতে ছিলেন আনিছুর রহমানের স্ত্রী আছমা আক্তার (৫৫), পুত্রবধূ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মোঃ নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার উর্মি (২২) এবং নাতি।
পরদিন সকালে নাজমুল সাকিব বাড়িতে ফিরে দেখেন, ঘরের গেট খোলা এবং পুত্রবধূকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে তিনি তার মা আছমা আক্তারকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের ডেকে আনলে তারা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের মালামাল এলোমেলো ছিল এবং স্টিলের সিন্দুক ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল খোয়া যায়।
ঘটনার পর জয়দেবপুর থানায় হত্যা ও চুরির মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে এবং তদন্ত শুরু করে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরীফ উদ্দীনের সার্বিক তদারকিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার পিরুজালী (আলিমপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ উজ্জ্বল (৪৬) এবং মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ শাহনাজ বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, পুত্রবধূ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মোঃ নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার উর্মির (২২) পরিকল্পনা ও শাহনাজ বেগমের প্ররোচনায় তারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।