রাজধানীর দক্ষিণখানের গাওয়াইরে ৭১ বছর বয়সী মাহবুবা আরা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্বর্ণের গয়নার লোভে বৃদ্ধাকে হত্যা করলো দূর সম্পর্কের নাতি। অভিযুক্ত আবু তালহা সজিবকে (২৯) গ্রেফতার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। টাকা চেয়ে না পেয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বিকেলে দক্ষিণখানের গাওয়াইর প্রেমবাগান এলাকায় নিজ বাসায় একা ছিলেন মাহবুবা আরা বেগম।
টাকার লোভে ও টাকা না পাওয়ার জেরে নাতি আবু তালহা তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার কানের দুল খুলে নিয়ে যায়।
ঘাতক সজিব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই আব্দুল্লাহ-আল-মামুন তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ আসামি সজীবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাস আগে মাহবুব হাসানের বাবা মারা যান। এরপর থেকে তার মা মাহবুব আরা বেগম দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইরে নিজের চতুর্থ তলার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বাস করছেন।
বৃদ্ধ মা একা থাকায় ফ্ল্যাটে ও শোয়ার রুমে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন ছেলে মাহবুব হাসান। তিনি সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে বাস করেন উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায়। ঘাতক সজিব মাহবুব হাসানের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। তিনি এবং তার পরিবার একই এলাকায় বসবাস করেন এবং মাহবুব আরার বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার ব্যবসার কাজের ব্যস্ততায় মায়ের খবর নিতে পারেননি মাহবুব হাসান।
রাত ৩টার দিকে মায়ের ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার সময় দেখতে পান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে সজিব অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় তার মায়ের মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। শোয়ার রুমে গিয়ে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। বাঁচার জন্য তার মা ধস্তাধস্তি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সজিব মাহবুব আরাকে খাট থেকে টেনেহিঁচড়ে ফ্লোরে ফেলে তার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। এর ফলে মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে মাহবুব আরা মারা যান। সজিব মাহবুব আরার ব্যবহৃত সোনার দুল নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর দিয়ে লক করে বের হয়ে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, সজিব দুটি স্বর্ণের দুল নিয়ে একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করেন। পরে অভিযান চালিয়ে গলানো অবস্থায় সেই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিহতের হাতের চুড়িও নিয়ে গেলেও সেগুলো স্বর্ণের না হওয়ায় ফেলে দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে সজিব জানিয়েছেন।