খুলনা সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারী ও যুবলীগ কর্মীকে মধ্যরাতে মোবাইলে ডেকে নিয়ে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম মো. ইসমাইল (৩২)। তিনি নগরীর খুলনা থানাধীন দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার শাজাহান ওরফে পাগলা শাজাহানের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সোয়া ১২টার দিকে ইসমাইলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, নিহতের মুখমণ্ডলে চারটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একটি মোবাইল ফোনকল পেয়ে ইসমাইল বাড়ি থেকে বের হন। তাঁদের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা যায়নি। ফলে কে বা কারা তাঁকে ফোন করে বাইরে নিয়ে গিয়েছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিহতের মা ও বোনের ভাষ্য, ইসমাইল কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধে জড়িত ছিলেন না। চার কন্যা সন্তানের জনক ইসমাইল কর্মস্থল থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। তারা জানান, এর আগেও একই পরিবারের আরেক সদস্য একই ধরনের হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তার শঙ্কায় তারা সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।