চট্টগ্রাম ব্যুরো : কোস্ট গার্ডের জব্দ করা চোরাই কয়লা, গমের ভুষি ও ডিজেল আদালতের অনুমতি ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পতেঙ্গা মডেল থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে জব্দ করা দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটসহ মালামাল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই কোস্ট গার্ড সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট থেকে প্রায় ১ হাজার কেজি চোরাই কয়লা জব্দ করেন। একই সময় পৃথক আরেকটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট থেকে ৬০০ কেজি চোরাই গমের ভুষি ও তিন লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। মালামালসহ দুটি বোটই পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করে পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় পতেঙ্গা মডেল থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর ১৬৯৩ ও ১৬৯৪। পরে জব্দ করা মালামাল ও বোটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর ও এসআই নিদর্শন বড়ুয়াকে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নেওয়া তো দূরের কথা, জব্দ করা মালামালের মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাইও করেননি। বরং প্রায় এক লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে জব্দ করা দুটি বোট ও মালামাল ফোরকান ও বাদশা নামের ব্যক্তিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, চোরাই বা অবৈধ মালামাল জব্দের পর তা যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা। বিশেষ করে কোনো মামলার আলামত বা জব্দ করা মালামাল আদালতের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোস্ট গার্ডের অভিযানে জব্দ হওয়ার পরও কীভাবে দুটি বোট ও বিপুল পরিমাণ মালামাল অল্প সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ফিরে গেল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। পাশাপাশি জব্দ করা মালামালের প্রকৃত মালিকানা, এগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কেন সেগুলোকে চোরাই মালামাল হিসেবে জব্দ করা হয়েছিল-এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জব্দ করা মালামাল আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত উৎকোচের অর্থের লেনদেন এবং জব্দ করা বোট ও মালামাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।