দেশে ব্যাপকহারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ আগস্ট দেশে ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। এতে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় জনরোষও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকারের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অভাবে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নাগরিকরা নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দেওয়া হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

দুর্ভোগ লাঘবে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পে গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো, এনার্জি কনভার্শনের প্রয়োজনীয় নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা এবং তেল পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, স্থলভাগের রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট, নতুন এক্সপ্লোরেশন ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।