ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিন কোটি টাকার বেশি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে বাড়ির খোঁজে এমএলএআর পাঠানো প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি আদালতের আদেশে নজরুল দম্পতির ক্রোককৃত সম্পদের মধ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নিকুঞ্জ, মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও জমিসহ অঢেল সম্পদ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালতের আদেশে নজরুল ইসলাম দম্পতির সম্পদ ক্রোক হয়েছে। দুদক আদালতের আদেশ অনুসরণ করে আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দুদক ও আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত এফডিআর ও প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত মূল্যে জমি কিনে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব সম্পত্তির সন্ধান পায় দুদক।
নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান বারিধারায় ৮ কাঠা বা ১৩.২২২ শতাংশ জমিসহ বাড়ি (মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা), উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাল জমি ও প্লট, ময়মনসিংহের ভালুকায় (হবিরবাড়ী মৌজায়) ও মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে বড় আকারের নাল জমি ও পুকুর, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় (কুয়াকাটা) ৬.১৬ একর নামা জমি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমি রয়েছে।
অন্যদিকে তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। যার মধ্যে- মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল ভূমি, গুলশান আবাসিক এলাকায় একাধিক বাড়ি ও প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। সবমিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যার বেশিরভাগই বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট, নাল জমি, বাড়ি এবং ফ্ল্যাট।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবসহ ১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নজরুল ইসলাম ও তার পুরো পরিবার আমেরিকার নাগরিক। নজরুল ইসলাম ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা তিন কোটি টাকার বেশি টাকা পাচার করে আমেরিকার ওয়েলিংটনে বাড়ি কেনেন। ওই বাড়ির বিষয়ে আমেরিকার তথ্য উদ্ধারে শিগগিরেই এমএলএআর পাঠানো হবে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
মো. নজরুল ইসলাম ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুদক এখন পর্যন্ত ৭টি মামলা দায়ের করেছে। যেখানে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। যার তদন্ত চলমান রয়েছে। আরও ৫ থেকে ৭টি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।