কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পলাতক সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সকালে সেনাবাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে আবদুর রহমান বদি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

কারাগারে পাঠানো অপর দুই আসামি হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। তারা অন্য মামলায় আগে থেকেই ঢাকার সেনানিবাসের সাবজেলে ছিলেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।

১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

একরামুল হক হত্যার ঘটনায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অন্য মামলায় আটক তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পলাতক সাত আসামি হলেন— পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নেওয়া হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট’ বা এনইআর দাখিল করা হয়েছে। পরে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।