চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গত কয়েক মাসে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা। এ পর্যন্ত ২৭টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আনোয়ার নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক এবং একটি পিকআপভ্যান জব্দ করা হয়।

পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পুলিশের ধারণা, চুরি করা ট্রান্সফরমার থেকে মূল্যবান তামার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম খুলে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা হতো। এসব চুরির ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকেরা।

ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটিকে শুধু লোডশেডিং মনে না করে সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফরমারের বিষয়ে খোঁজ নিতে গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকায় অভিযান চালায় মতলব উত্তর থানা পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের যৌথ দল। অভিযানে একটি পিকআপভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মালামাল থানায় নেওয়া হয়।

ট্রান্সফরমার চুরির কারণে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় না, আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয় গ্রাহকদের। পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমারের মূল্যের একটি অংশ গ্রাহকদের বহন করতে হয়। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হলে নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহেও দেরি হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নতুন করে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আর শোনা যাচ্ছে না। তবে চোরচক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি পুরোপুরি বন্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, “এ পর্যন্ত মতলব উত্তরে ২৭টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”