গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান আতা (৫০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাঁর বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুনও মৃত্যুবরণ করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই পরিবারের মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আতাউর রহমান ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাতে মির্জানগর শিমুলতলী এলাকায় সড়কের পাশে আতাউর রহমানকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা আতাউর রহমানের অটোরিকশায় উঠে তাঁকে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যার পর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আতাউর রহমানের বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুনও মৃত্যুবরণ করেন। মা-ছেলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। তাঁদের দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করে বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। হত্যার কারণ, কারা জড়িত এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না—সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের এমপি সালাউদ্দিন আইউবী। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি বলেন, কাপাসিয়াকে শান্তির কাপাসিয়ায় রূপান্তরিত করতে মাদক নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।