জাবি সংবাদদাতা
ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এবং সারাদেশে চলমান সহিংসতা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন ও লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। গতকাল রোববার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা, ধর্ষণ ও শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শাখা ছাত্রশক্তির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ছাত্র প্রতিনিধির ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। আমি সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—দেশের এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা কি ছাত্রলীগকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়? এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, বিগত সময়ে আমরা দেখেছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কীভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের পেশিশক্তির ব্যবহার করেছে। আমরা ভেবেছিলাম জুলাই-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে আর এ ধরনের সহিংসতা দেখতে হবে না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যস্ত থাকায় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগে ছাত্রলীগ আবারও প্রাসঙ্গিকতা পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় কিংবা শাহবাগ থানার মতো স্থানে মব করে বিরোধী মত দমন করা হয়, তখন আমরা বলতে বাধ্য হই—সালাউদ্দিন সাহেব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রমাণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুতর ব্যর্থতা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাঙ্গন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর যে নির্মম হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আরও দেখেছি, পুলিশের উপস্থিতিতেই ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ ড্রেস পাল্টালেও আচরণে পরিবর্তন আসেনি—এটা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। আগে এক পক্ষের তোষামোদ করা হতো, এখন অন্য পক্ষের—কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার যেমন দীর্ঘদিনের তনু হত্যার বিচার নিশ্চিত করেছে, ঠিক তেমনি দেশব্যাপী সংঘটিত সব ধর্ষণ, হামলা ও সহিংসতারও দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।