মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘সীরাত কনফারেন্স ও সীরাত কুইজ প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আমান উদ্দিন মুজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মনজারুল আলম, পিএইচডি, এমআইইইই।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. সাইফুল্লাহ মাদানী, তারবিয়াহ এডুকেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোখতার আহমাদ এবং কুমিল্লার নাগাইশ দরবার শরীফের পীর সাহেব অধ্যক্ষ মোশতাক ফয়েজী। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর সীরাত ও জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. মনজারুল আলম বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়; বরং জ্ঞানকে নৈতিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে সমন্বিত করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। মহানবী (সা.)-এর জীবন এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শিক্ষার উৎস।

প্রধান আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ মহানবী (সা.)-এর মক্কা ও মদিনার জীবন, তাঁর নেতৃত্ব, মানবিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর সীরাত শুধু ইতিহাসের বিষয় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার বাস্তব দৃষ্টান্ত।

অন্যান্য আলোচকরাও মহানবী (সা.)-এর চরিত্র, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সীরাত কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬’। হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সীরাত চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত হবে এবং তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।