দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা পাহাড়সম বকেয়ার জট কাটিয়ে অবশেষে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ছাড় করেছে সরকার। আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একযোগে এই অর্থ পাঠানো হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সিংহভাগ—প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই পরিচালিত হয় এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অথচ জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যয় করলেও কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করতেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থসংকট এবং নানা জটিলতার কারণে এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঝামেলা রাখা হয়নি। এমনকি ফাইল আটকে রাখার পুরোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি বাদ দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইপূর্বক সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজারের বেশি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজারের অধিক আবেদনকারীর অনুকূলে এই অর্থ বণ্টন করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের আর্থিক কষ্ট লাঘব এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতের জন্য অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টকে স্বাবলম্বী করতে ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে তহবিল বৃদ্ধি এবং শিক্ষকগণ অবসরে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যান, সেই স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থার পরিকল্পনাও করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার একযোগে এই অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা ও সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।