জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সকে আরও যুগোপযোগী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মমুখী করতে মানসম্মত রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল, রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্ট উন্নয়নের ওপর জোরালো গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এখন কেবল একটি একাডেমিক বিষয় নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা প্রদান করতে হবে, যা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বৈচিত্র্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে হবে। কনটেন্টের ভাষা হতে হবে সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব, যাতে তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরাও সহজে বিষয়বস্তু আত্মস্থ করতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার বৈষম্য দূর করে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে একই মানের আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় দায়িত্ব। এমন শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই বুঝতে নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের গতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত রূপান্তর ঘটছে। তাই অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির চাহিদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, সেভাবেই পাঠ্যবিষয় ও কনটেন্ট ঢেলে সাজাতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গিগ ইকোনমির মতো আধুনিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতাকে কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও আয়মুখী কাজের সঙ্গে যুক্ত করা। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রযুক্তির কেবল নিষ্ক্রিয় ব্যবহারকারী না হয়ে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তার উচ্চ প্রশংসা করে ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম, রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল ও ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবে এবং তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালার প্রথম দিনে রিসোর্স বুকের প্রতিটি অধ্যায় ও টপিকের বিষয়বস্তুর যথার্থতা, শিক্ষার্থীদের উপযোগিতা, পেডাগজিক্যাল পদ্ধতি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিষয়বস্তুকে আরও সহজবোধ্য, সমৃদ্ধ ও প্রায়োগিক রূপ দিতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেন। পরবর্তী দুই দিনে এসব সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উদ্বোধনী কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল ইসলাম, আইসিটি (কারিকুলাম)-এর ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমা তারা, ইউনিসেফের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনম ও ইস্তানুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, ডোমেইন এক্সপার্ট, পেডাগজি এক্সপার্ট, ফ্যাসিলিটেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।