জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। দিবসটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও দপ্তরগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য ও কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এ সময় উপাচার্য বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। "জুলাইকে কথায় নয়, কাজে ধারণ করতে হবে।" তিনি বলেন, দিবসটির তাৎপর্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও একই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের নিচতলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মৃতিচিত্র ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিয়ে আলোকচিত্র ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি নির্মাণের কাজ চলছে। ডকুমেন্টারিটির দিকনির্দেশনা ও উপস্থাপনা নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হবে।
আগামী ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা লিপি বেগম উপস্থিত থাকবেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন আহমাদ।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা, সাংবাদিক এবং উদযাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।