ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্পাদিত ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গ্রন্থটির সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শুধু একটি প্রকাশনা নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, কষ্ট ও নিপীড়নের একটি প্রামাণ্য দলিল। গেস্টরুম ও গণরুমকে কেন্দ্র করে যে নির্যাতনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার বাস্তব চিত্র শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ভয়, চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে বলতে পারেননি। তাদের না-বলা কথাগুলো সামনে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এই অধ্যায় সংরক্ষণ করাই বইটি প্রকাশের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হবে না। বইটি ক্যাম্পাসে এমন পরিবেশ তৈরির প্রত্যয়কে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, গেস্টরুম-গণরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার।
অতীতে সংঘটিত এসব ঘটনার সুষ্ঠু নথিবদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে একই ধরনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে না পারে, সে জন্য এসব ঘটনা সংরক্ষণ জরুরি। ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করবে এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমে শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই ভয় দেখানো, আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না; এটি হবে জ্ঞানচর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র।
তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী তার রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা অবস্থানের কারণে নিপীড়নের শিকার হবে না। ডাকসু শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে পরিবর্তনের এ ধারাকে এগিয়ে নিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বইটির সহ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, হোসাইন আহমেদ জুবায়ের, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস ও সুহাইল মাহদীন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ গ্রন্থের সৌজন্য কপি তুলে দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে গেস্টরুম ও গণরুমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বইটির সহ-সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম যুবা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।