ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে নবাব সলিমুল্লাহর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘ইশারাত মনজিল’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল অডিটোরিয়ামে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিএস এস. এম. ফরহাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি এ অঞ্চলের শিক্ষা এবং অনগ্রসর মুসলিম ও হিন্দু সমাজের অগ্রগতির অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর অবদান ও চিন্তাধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সবার। ‘ইশারাত মনজিল’ স্মারক গ্রন্থের মাধ্যমে নবাব সলিমুল্লাহর জীবন, কর্ম ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা আরও গভীরভাবে জানতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর অবদান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ডাকসু ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর জীবন ও কর্ম আমাদের ইতিহাসের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। ‘ইশারাত মনজিল’ স্মারক গ্রন্থটি নবাব সলিমুল্লাহর অবদান জানার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলার সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে পরিচিত করবে। ডাকসুর এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ইতিহাসচর্চাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

DUSU unveils commemorative book 'Isharat Manzil' in memory of Nawab Salimullah2

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর অবদান শুধু একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি শিক্ষার প্রসার ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইশারাত মনজিল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ডাকসু এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে দূরদর্শী একজন নেতা, যাঁর চিন্তা ও উদ্যোগ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর অবদান গভীরভাবে সম্পৃক্ত, তাই তাঁর কর্ম ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ‘ইশারাত মনজিল’ প্রকাশের মাধ্যমে ডাকসু সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস গ্রহণ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের ভিপি জায়েদুর হক ও এফ আর হল ভিপি রফিকুল ইসলামসহ ডাকসু, হল সংসদ এবং হলটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।