বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ‘রবীন্দ্র-নজরুল বিষয়ক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেছেন, “নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে জাগ্রত করেছে।”
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে বাংলা বিভাগের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে সবার বিচরণ সমান নয়। তবে সাহিত্য মানুষের চিন্তা ও জীবন পরিবর্তনের শক্তি রাখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম মানবতা, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, “তাঁদের লেখনি আমাদের জন্য আজও পাথেয় হয়ে আছে। তাঁদের একটি লেখা যেমন একজন মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে পারে, তেমনি একটি প্রজন্মকেও পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে পারে।”
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম মানবকল্যাণের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে জাগ্রত করেছে।” তাঁদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “শুধু ভোগ-বিলাস বা অর্থের মোহের পেছনে না ছুটে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। জীবনে যে পেশাতেই থাকি না কেন, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”
তিনি বলেন, একজন ভালো মানুষ যে পরিবেশেই থাকবেন, তিনি সেই পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শারমিন আক্তার।
সেমিনারে ‘রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্র সাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী। ‘নজরুল মানস ও নজরুলবিশ্বে বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ও প্রাবন্ধিক এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।
আলোচনায় বক্তারা বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অসামান্য অবদান, মানবতাবাদ, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সমকালীন সমাজে তাঁদের সাহিত্য ও দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।