ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলীনূর রহমানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি হওয়া এই ছাত্রদল কর্মী শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হল সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সিট বণ্টনের প্রশাসনিক তালিকায় আলীনূরের কোনো বৈধ বরাদ্দ নেই। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর প্রকাশিত হলের কোনো সিট তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়নি। এমনকি সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মেধার ভিত্তিতে প্রথম বর্ষের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের যে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই তালিকাতেও আলীনূরের নাম ছিল না।

হলের যে ব্লকে ২১৭ নম্বর কক্ষটি অবস্থিত, অজানা কারণে প্রশাসনিক তালিকায় পুরো ব্লকটিকেই ফাঁকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই ব্লকের কোনো কক্ষেই সাধারণ কিংবা মেধা তালিকার শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক এই ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই ২১৭ নম্বর কক্ষে আলীনূর অবৈধভাবে আসন দখল করে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় ৩২০টি আসনের বিপরীতে আলীনূরের অবস্থান ছিল এক হাজারের বেশি। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত পোষ্য কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকায় দেখা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩৩ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি তাঁর পিতার চাকরির সুবাদে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পোষ্য কোটায় ভর্তি হন।

আলীনূরের হলের সিট সংক্রান্ত বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে আলীনূরকে হলের বৈধ শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। তবে সিট বরাদ্দের নথি ও তালিকার অসঙ্গতি তুলে ধরা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন, আলীনূর প্রকৃতপক্ষে হলের কোনো বৈধ শিক্ষার্থী নন এবং তিনি অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আলীনূর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে ক্র্যাচে ভর করে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি ও শিক্ষাবর্ষে সিনিয়র কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে আচমকা থাপ্পড় মারেন এই অবৈধ আবাসিক জুনিয়র শিক্ষার্থী আলীনূর। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া ও ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।