জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া আরও আহত হয়েছেন জকসু এজিএস মাসুদ রানা, জকসু সদস্য আকিব, আব্দুল্লাহ, জবি ছাত্রশক্তি সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সভাপতি সভাপতি ইভান তাহসিবসহ শতাধিক।
এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত শুরু এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার হন জকসু প্রতিনিধিরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জকসু প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন। এ সময় জকসু নেতাদের সঙ্গে জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকেও ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক।
এ সময় হিমেলকে বলতে শোনা যায়, ‘এই, দরজা বন্ধ কর। দ্রুত গেট আটকা।’ পরে মিলনায়তনের গেট আটকে দেওয়া হয়। বর্তমানে অডিটরিয়ামের সামনেই ছিঁড়ে ফেলা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন জকসু নেতারা।
জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদল যোগসাজশ করে তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দেয়, প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলে এবং সরাসরি হামলা চালায়।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ তার ফেসবুকে লেখেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ও জকসুর আরো নেতৃবৃন্দ। আরো গুরুতর আহত হয়েছেন জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং আরও অনেক শিক্ষার্থী। আহতদের অনেকেই ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে আরও লেখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের হামলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও আহত শিক্ষার্থীদের জায়গার সংকুলান হয়নি।
জকসু এজিএস মাসুদ রানা বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্নভাবে দাবি নিয়ে প্রতিবাদ করি। প্লাকার্ড হাতে অবস্থান নেই কিন্তু ছাত্রদল প্রথম দফায় মেহেদী হিমেলের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। ২য় দফায় ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ভিসির সামনে আমাদের আক্রমণ করে।
এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা।