জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম।
ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কোন বিবেচনায় মওকুফ করা হয়েছে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্য হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’ সংগঠনটি এই বক্তব্যকে প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির দাবি, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরবর্তীতে বিষয়টি বোর্ডে গেলে এক সদস্য অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানান এবং পরে তা সংশোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে নিয়মনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এ অবস্থায় তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা এবং তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানায় সংগঠনটি।