স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
মেয়েদের জন্য আরও নিরাপদ, সহায়ক ও আনন্দময় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেয়ে উচ্চশিক্ষায় আসার আগেই ঝরে পড়ে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর হবিগঞ্জ জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেয়েদের জন্য সমাজে এখনও পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে মেয়েরা নির্ভয়ে শিক্ষা গ্রহণ, নিজেদের প্রতিভা বিকাশ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতেই দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মেয়েদের STEM শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় মেয়েদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ স্থাপন জরুরি। ২০২৮ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও জোরদার করা হবে। এ পরিবর্তনের ধারায় মেয়েদেরও সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে এমন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে, নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হবে। সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহান আরা খাতুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
উদ্বোধনী আয়োজনকে ঘিরে হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।