ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্ত এবং বিধি অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণে 'এ্যান্টি র্যাগিং ভিজিলেন্স' কমিটির অধীনে ৪ সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি র্যাগিং ভিজিলেন্স কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রক্টর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নবগঠিত এই উপ-কমিটিতে অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং মো. সালাউদ্দিন মোল্লাকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মাকসুদা আক্তার।
বিজ্ঞপ্তিতে সাব-কমিটিকে আগামী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অপরাধীদের শাস্তির ধরণ নির্ধারণপূর্বক সুপারিশ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “আগামী শনিবার আমি কমিটির একটি মিটিং ডেকেছি। সেখানে আমরা একত্রিত হয়ে আলোচনা করে আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব।”
প্রসঙ্গত, ইবির ট্যুরিজম বিভাগে ‘ম্যানার শেখানো’র নামে নবীনদের অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য মতে, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, ল্যাম্পপোস্ট গণনা, মুখে ময়লা পানি ধরে রাখা, মেসের রুমে জোরপূর্বক ধূমপান এবং নির্মাণাধীন ১০ তলার ছাদে তুলে ভিডিও চিত্র ধারণের মতো ঘটনা ঘটে। এমনকি এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে আবাসিক হলে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই উপ-কমিটি গঠিত হয়।