ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সভাকক্ষে এ পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় কবিতা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গায়ত্রী নাথ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আকছা দিলরুবা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান শাহান।

এছাড়া সংগীত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী সাজিন শাহারিয়ার সাদিফ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত সেন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জেরিন শবনম।

প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সুহাইল মাহদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন (খান জসিম) সহ ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন সম্পাদক, সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অবিচ্ছেদ্য স্মারক, যা আমাদের প্রতিমুহূর্তে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার লক্ষ্যেই ডাকসুর এ আয়োজন। শিল্প ও সাহিত্যের চর্চা একজন মানুষকে শুধু সৃষ্টিশীলই করে না, বরং দেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীই আমাদের এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রাণ ও প্রকৃত প্রেরণা। ভবিষ্যতে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনকে আরও ছড়িয়ে দিতে আমরা নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখব।’

সুহাইল মাহদীনের সঞ্চালনায় ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সুস্থ চিন্তাচর্চায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের একটি সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে। আজকের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই এবং প্রত্যাশা করি তারা ভবিষ্যতেও তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর বজায় রাখবে।’

আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন (খান জসিম) বলেন, ‘আমাদের বিশ্বমঞ্চে বিশ্বমানের নেতৃত্বের পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এ ধরণের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’