২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলী করা ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

এদিকে এ মামলার মোট ৮ আসামীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

প্রসিকিউশন বলেছে, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলী করা হয়। পরে গুলী করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাঁদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাঁদের পা কেটে ফেলতে হয়।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তার তিন আসামীর পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, যশোরে দুই নেতার পায়ে গুলী লাগার ঘটনাটি পদ্ধতিগত ও ব্যাপক মাত্রায় অপরাধ নয়। এটি নির্দিষ্ট বেসামরিক জনগণের ওপরও আক্রমণ নয়। ফলে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে না। এ কারণে এটি ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আসে না। ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি চান তাঁরা। পরে ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের তারিখ ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন এ মামলায় আসামী। এর মধ্যে তিনজন কারাগারে আছেন। আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর পাঁচ আসামী পলাতক রয়েছেন।