শিশুদের সঙ্গে ভীতিহীন এবং আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শাসন বা ভয়ের পরিবর্তে স্নেহ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে শিশুদের বড়ো করলে তারা আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে। বিশেষ করে বিপদগ্রস্ত ও সহিংসতার শিকার শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়ের পরিবেশ দূর করে মানবিক ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মানসিক চাপ ও ট্রমা কাটিয়ে সংবেদনশীলভাবে সেবা নিশ্চিত করতে বুধবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এবং উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব। তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশ, ভিকটিম শিশুর আচরণগত পরিবর্তন, নিরাপদ যোগাযোগ ও ফলপ্রসূ কাউন্সেলিংয়ের নানা কৌশল তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়েও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, আন্দোলনের পর বহু পুলিশ সদস্য মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি। মানসিকভাবে দৃঢ় থাকলে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের পাশে আরও সংবেদনশীলভাবে দাঁড়ানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের পিওএম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে আরএমপির বিভিন্ন থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মোট ৩৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার।