‘বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী’ উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ০৯:৪৫ মিনিটে কমিশন ভবন চত্ত্বরে স্থাপিত মৃত্যুঞ্জয়ী স্মৃতিস্বম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ‘মাল্টিপারপাস হল’-এ সকাল ১০:৩০ মিনিটে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন-এর সাম্প্রতিক অর্জন বিষয়ক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধান অতিথি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ এহছানুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জনগুলোর জন্য কমিশনকে সাধুবাদ জানান। প্রশাসন ক্যাডারের মত অধিক সংখ্যক মেধাবী প্রার্থীরাও যেন টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডারে প্রবেশ করে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ৮ এপ্রিল কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, বরং এটি দেশের প্রশাসনিক মেধা, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলক। উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ এর “রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার” অধ্যায়ে শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। তিঁনি আরও বলেন- অন্তবর্তীকালীন সরকার যে ৩টি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিল বর্তমান সরকার সেটি গ্রহণ না করে ০১টি পাবলিক সার্ভিস কমিশন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মেধাবী তরুণ-তরুণী এই কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং দেশের উন্নয়ন, নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। উপদেষ্টা বলেন- একটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। এ কঠিন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের জন্য মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে প্রশাসনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি বিসিএস পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় সেবায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় ন্যায়, মেধা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক। কমিশনের প্রতিটি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মিত হয়। প্রধান অতিথি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, কমিশনের বর্তমান দায়িত্বকালীন কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি সকলকে আহ্বান জানান এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে— ‘যেখানে মেধা হবে একমাত্র মানদ-, ন্যায় হবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং জনগণের সেবা হবে সর্বোচ্চ অঙ্গীকার’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। তিনি বলেন- দেশের একটি সংকটকালে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পিএসসি’র প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। প্রিলিমিনারি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যেন ন্যায্যতা নিশ্চিত হয় সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকারী কর্ম কমিশন।
চেয়ারম্যান বলেন- এক বছরে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার রোডম্যাপ নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের কাজের সাথে অর্থের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় দ্রুততার সাথে কাজ সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বাধীনতাও প্রয়োজন। এক বছরে এক বিসিএস-এর সুফল প্রাপ্তির জন্য ভেরিফিকেশনের সময় কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। কমিশনের চেয়ারম্যান কমিশন কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিকি করণের প্রক্রিয়াতে সরকারের সহযোগিতা কামানা করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোঃ সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে কমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।