এইচ এম আকতার, নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব যোবায়ের। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের শেডো মন্ত্রিসভা গঠন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিউইয়র্কের জামাইকা এলাকায় মুনা সেন্টারে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ল’ইয়ার কাউন্সিলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব যোবায়েরের সম্মানে এ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আরমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ইমাম দেলোয়ার হোসাইন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ আল আরিফ, নাহারের প্রেসিডেন্ট ডা. আতাউল হক ওসমানী, দেলোয়ার মজুমদার, দোহা আমিনসহ সাবেক নেতাকর্মীরা।

Opposition Party’s Shadow Cabinet Marks a New Chapter in Politics, Zobayer

এহসান মাহবুব যোবায়ের বলেন, “জান্নাতের পথে চলা এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্যই আমরা কাজ করছি। ছাত্রজীবনে যারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সেটি আল্লাহর বিশেষ রহমত। যারা সে সুযোগ পাননি, তাদের অনেকেই এখন আফসোস করেন।”

তিনি বলেন, অনেক সময় আবেগের তাড়নায় আমরা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিই। এতে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ইসলামী আন্দোলনের কাজ বুঝে-শুনে করতে হবে। একা চললে যেকোনো সময় বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পারিবারিক জীবনেও অনেকের সঙ্গে আন্দোলনের কাজের সমন্বয় করতে সমস্যা হয়। জীবনের গতি ও লক্ষ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় খুব দ্রুত চলে যায়। শৈশবে যেদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছি, মনে হয় সেই দিনগুলো খুব বেশি দূরের নয়। অথচ জীবনের অনেকটা সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। মানুষের জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ভুল সিদ্ধান্তের জন্য জীবনে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে। তাই দেরি না করে কল্যাণের কাজে সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, “এটি সাহসী মানুষের আন্দোলন, এটি মুজাহিদদের পথ। এটি থেমে থাকার পথ নয়।” একই সঙ্গে প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এহসান মাহবুব যোবায়ের বলেন, দেশের দায়িত্বশীলরা নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় সবাইকে বুঝে-শুনে মন্তব্য করতে হবে। তিনি বলেন, একটি সময় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সংগঠন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং শহিদ পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ। তাদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

দেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আল্লাহর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, যুবসমাজ এবং মা-বোনেরা যেভাবে এগিয়ে আসছেন, তা আশাব্যঞ্জক। তাদের যোগ্যতা, মেধা ও শক্তিকে দেশ ও ইসলামী আন্দোলনের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, মানুষ পার্থিব ও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য কত পরিশ্রম করছে; অথচ মহান আল্লাহর পথে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। মানুষের মৃত্যু যেকোনো সময় এসে যেতে পারে। তাই দুনিয়ার জীবনের পাশাপাশি আখিরাতের প্রস্তুতির জন্যও সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যে নিহিত। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের দায়িত্বের পাশাপাশি দ্বীনের কাজেও সময় দিতে হবে।