১৯৮৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘খুলনা আড়াইশো বেড হাসপাতাল’ নামে যাত্রা শুরু করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এর আগে ১৯৮৮ সালে প্রথম এবং ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় দফায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও, সেই জনবল ছিল মাত্র ২৫০ শয্যার জন্য। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০ থেকে ২,০০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা।
তথ্যানুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের ৩১৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৭০ জনÑশূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। প্রথম শ্রেণির নার্সিং কর্মকর্তার ২টি পদ থাকলেও নেই একজনও। দ্বিতীয় শ্রেণির নার্সিং কর্মকর্তার ৪৮৬টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৬৪টি পদের মধ্যে ২টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ১০৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৫৭ জন শূন্য রয়েছে ৫২টি পদ।
অন্যদিকে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারী থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ না করায় সেবার মান আরও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নড়াইল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলী আকবার জানান, আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আজ চার দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি। রোগীদের উপচে পড়া ভিড়, বেড পাইনি, মেঝেতে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে পিরোজপুর থেকে আসা আলেয়া বেগম জানান, আমি আমার শ্বশুরকে নিয়ে আজ দুই দিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫-৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে রয়েছি। প্রথমে বেড পাইনি। দুইদিন পর আজ বেড পাইসি। এই দুইদিন মেঝেতে থাকতে খুব কষ্ট হয়েছে। শুনেছি জনবল সংকট, বেডও সংকট। সব মিলিয়ে এতো রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, “ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের চরম কষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় রোগীদের চাপে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। রোগীর চাপ এতো বেশি যে অনেক সময় মেঝেতেও জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি বলেন, সেই ৫০০ বেডের জনবল দিয়েই চলছে এখনো হাসপাতালের কার্যক্রম। তবে, জনবল সংকট নিরসন হলে হাসপাতালের সমস্যা অনেকাংশ কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ করেন।