সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচন বুধবার (১৩ মে) সকালে পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনের ঐতিহ্য হচ্ছে দুটি প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে যেভাবে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সিংহভাগ সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে একইভাবে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনেও ৭ জন কমিশনারের মধ্যে ৬জনই বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে মাত্র একজন কমিশনার নেওয়া হয়েছে। ফলে অধিকাংশ কমিশনার দলীয় আনুগত্যতায় পক্ষপাতিত্বের ভূমিকা রাখছে বলে বিজ্ঞ আইনজীবীরা তাকে জানিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ঢাকা বারের পুনরাবৃত্তি সুপ্রিম কোর্ট বারে করা হলে আইনজীবীরা মেনে নেবে না।

বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় যেই বৈষম্য ও অনিয়ম করা হয়েছে তার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনে পড়ছে।

তিনি বলেন, পেশাজীবী সংগঠনে ক্ষমতাসীনদের দলীয় প্রভাব নিলজ্জতার নিকৃষ্ট উদাহারণ।

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল বাতেন জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যত ধরনের অনিয়ম হয়েছে তার সবগুলো বার কাউন্সিল এবং প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। সেই সুপ্রিম কোর্ট আঙ্গনেই যদি আইনজীবীদের সংগঠনের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তবে আইন-আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিক দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনকে সবধরনের প্রশ্নবিদ্ধের উর্ধ্বে রাখা।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে সবুজ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্ট শাখা সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু, সবুজ প্যানেলের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. আব্দুল হক (ব্যালট নং-০১), সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মাঈন উদ্দিন ফারুকী (ব্যালট নং-০৪), সেক্রেটারি পদপ্রার্থী এ.কে.এম রেজাউল করিম খন্দকার (ব্যালট নং-০১), সহকারী সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম (ব্যালট নং-০২), সহকারী সেক্রেটারি পদপ্রার্থী জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া (ব্যালট নং-০৫), ট্রেজারার পদপ্রার্থী এস.এম জাহাঙ্গীর আলম (ব্যালট নং-০২), সদস্য পদপ্রার্থী যথাক্রমে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী (ব্যালট নং-০৩), ফারজানা খানম (ব্যালট নং-০৪), ইসরাত জাহান অনি (ব্যালট নং-০৬), মাহমুদুল হাসান (ব্যালট নং-০৮), মো. ফয়জুল্লাহ (ব্যালট নং-১০), মো. জুবায়ের তৈয়ব (ব্যালট নং-১১), মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন লিঙ্কন (ব্যালট নং-১৬)।