যশোরে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাজমুন নাহার মুক্তি নামে এক নারী।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা ও ভূমিদস্যু হাদিউজ্জামান চিমা এবং তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় অর্ধযুগ ধরে তার বৈধ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বসবাস করে আসছিল।
লিখিত বক্তব্যে নাজমুন নাহার মুক্তি বলেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জমি দখল বজায় রাখে। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় যায়। একইসঙ্গে হাউজিং কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলে গত ১০ মে হাউজিং কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করে।
তিনি অভিযোগ করেন, দখলমুক্ত অভিযানের পর থেকেই অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা তার সন্তানদের হত্যার হুমকি, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দখলদাররা জমি দখলে রাখার সময় একাধিকবার তার বাড়িতে হামলা ও বোমা নিক্ষেপ করেছে। যুবলীগ নেতা চিমা ও তার ভাই সেলিমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী এসব কর্মকাণ্ড চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এসব কারণে তার স্বামী দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই সময়ও থানায় জিডি করা হয়েছিল বলে জানান।
নাজমুন নাহার মুক্তি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং অনেকেই বর্তমানে পলাতক। দখলমুক্ত হওয়ার পরও তারা এখনও জমি ঘিরে অবস্থান করছে, যাতে প্রকৃত মালিক পক্ষ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, আমার জমির সব বৈধ কাগজপত্র, খাজনা ও রেকর্ড রয়েছে। এরপরও জাল দলিল তৈরি করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সম্পত্তির সুরক্ষা ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।