জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলেও সরকার এটি স্বীকার করে না। তিনি বলেন, যারাই সরকারে আসে তারা ক্ষমতায় বসেই বলে আগের চেয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো! আসলে এটা একটা ধোঁকাবাজি এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া কিছুই না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতোই যদি ভালো পরিস্থিতি হয় তবে মানুষের নিরাপত্তা নেই কেন? ঘরে-বাহিরে কিংবা কর্মস্থলে কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। প্রতিটি মানুষ শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলার শিকার চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামের শারীরিক খোঁজ-খবর নিতে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছুঁটে যান আমীরে জামায়াত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের যদি নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয় তবে চিকিৎসক সমাজ চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে না। এতে সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র এবং জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্র ও জনগণকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে তিনি ঢামেকে চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামের শয্যা পাশে গিয়ে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি উপস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ডা. নাসির ইসলামকে উন্নত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন। পরে তিনি, ডা. নাসির ইসলামের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এসময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি শামসুর রহমান, বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. এমজি ফারুক হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ-সভাপতি ডা. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার সুমন ও মজলিসে শূরার সদস্য আহসান উল্লাহ সহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।