দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিচালনার প্রস্তাব আহ্বান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার ঢাকায় আয়োজিত 'এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ' শীর্ষক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'আমি সব বিতরণ কোম্পানিকে বেসরকারিকরণ করতে চাই। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাইকারি বিক্রি করতে পারে, কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের কাজটি বেসরকারি খাতেরই করা উচিত।'

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লির মতো শহরগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি কোম্পানিগুলো পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কেন তা পারবেন না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করবে।

মন্ত্রীর মতে, বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে বিল আদায়ের হার বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক বোঝা কমবে। তিনি বলেন, 'সরকার খুচরা ব্যবসা করতে পারে না। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এলে জবাবদিহিতা ও বিল আদায় নিশ্চিত হবে।'

পেট্রোলিয়াম আমদানিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির লক্ষ্যে এই খাতটিও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, 'সবসময় কেন সরকারকেই পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে হবে? বেসরকারি খাতকে এটি করতে দেওয়া উচিত। এর একটি বড় বাজার রয়েছে এবং প্রতিযোগিতার ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে।'

বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান মেয়াদের শেষে বাংলাদেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ক্লাস্টার-ভিত্তিক (গুচ্ছ-ভিত্তিক) রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং 'নেট-মিটারিং' পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ তুলে নেবেন।

মন্ত্রী জানান, যেসব ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে, তারা পৌর কর বা মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সে ছাড় পাবেন। অন্যদিকে যারা এটি করতে আগ্রহী হবেন না, তাদের ওপর বাড়তি ট্যাক্স আরোপ করা হতে পারে। তিনি আরও জানান, বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে এবং চীনা বিনিয়োগকারীরা এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।