বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো নিয়ে অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তার মতে, অতীতের ঘটনাগুলো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে সেখানেই আটকে থাকলে দুই দেশের উন্নয়ন ও সহযোগিতার পথ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। পরে বৈঠক নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, ভারতেরও রয়েছে—দুই দেশকেই সেগুলো মোকাবিলা করে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস বা অতীতের ঘটনাপ্রবাহ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেগুলোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনেই পড়ে। তাই তাদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া দুই দেশেরই দায়িত্ব।
প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক বোঝাতে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্ত ভাগ করে নেয় না, নিজেদের স্বপ্নও ভাগ করে নেয়। এ কারণে প্রতিবেশী হিসেবে পারস্পরিক দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। দুই দেশ সমান—কেউ বড় বা ছোট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তার মন্তব্য করা উচিত নয়। দেশের জনগণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, সেটি সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিকভাবে আরও উন্মুক্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান দীনেশ ত্রিবেদী।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের হাইকমিশনার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন হাইকমিশনার।
মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার।
তিনি জানান, বিএনপি যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার, তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ।