অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, কৃষক-প্রজা আন্দোলনের অগ্রদূত ও ‘বাংলার বাঘ’ খ্যাত মহান নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬২ সালের এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) অবস্থিত বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শেরেবাংলা স্মৃতি পরিষদ, কৃষক শ্রমিক পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, *“শেরেবাংলা ছিলেন এ দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারি। প্রজাস্বত্ব আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের ঋণের জাল থেকে মুক্ত করেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে শেরেবাংলার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, *“তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মূর্ত প্রতীক। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে তাঁর আপসহীন সংগ্রাম আজও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।”

আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হন।

সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে যাওয়া এই নেতার অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।